নাটক - অতৃপ্ত গেরিলা

লেখক- শোভন সাহা

প্রথম দৃশ্য

(মঞ্চ আলোকিত । আজাদ ও রুমীর প্রবেশ । কাল্পনিক রুপকথার মত সজ্জিত মঞ্চ । আজাদ ও রুমী দুজনেই কিছুক্ষন বাদে বাদে সামনে নিচে দর্শকের দিকে তাকিয়ে কথা বলছে ) 
আজাদ ঃ আচ্ছা রুমী, কি হচ্ছে বলতো ? ওরা সবাই কি করছে এই ভাস্কর্যের সামনে ? এত ফুল কিসের এখানে?
রুমী ঃ আরে , আজ যে একুশে ফেব্রুয়ারী । মনে নেই এই দিনে ভাষার জন্য শহীদ হয়েছেন বাংলার কিছু দামাল ছেলে । ওরা সবাই শহীদ মিনারে এসে ফুল দিয়ে তাদের বরন করছে । 
আজাদ ঃ দেশ স্বাধীন করেও স্বাধীন দেশের মাটিতে মরতে পারি নি রে । 
রুমী ঃ পরাধীন মাটিতে মরেছি বলেই না আজ জাতি স্বাধীনতার আস্বাদ পাচ্ছে , আমাদের স্বপ্ন তো এটাই ছিল । 
আজাদ ঃ হ্যা , ঠিক বলেছিস । খালেদ মোশারফ স্যারের কথা এখনো যেন কানে বাজে , “ স্বাধীন দেশ জীবিত গেরিলা চায় না , চায় রক্তস্নাত শহীদ “
রুমী ঃ শুধু কি তাই , তোর অসমাপ্ত কাজ আনিসুল হক সমাপ্ত করলো । 
আজাদ ঃ আহ কি উপন্যাসটাই না লিখলো আমাকে নায়ক বানিয়ে । এই “মা” উপন্যাস কিন্তু আমার লেখার কথা ছিল। 
রুমী ঃ হ্যা , তোর মা তো চেয়েছিল তুই গ্রন্থ লিখবি তোর মাকে নিয়ে।
আজাদ ঃ হ্যা রে , অনেকেই মাকে নিয়ে লিখতে চেয়েছিলো কিন্তু মা কাউকে লিখতে দেয় নি আমি লিখবো বলে।
রুমী ঃ কিন্তু যে গ্রন্থ রচনা করবে তাকেই তো এই পরপারে আসতে হল।
আজাদ ঃ খুব একটা হতাশ নই তাতে “মা” উপন্যাসের রচয়িতা না হতে পারি নায়ক তো হতে পেরেছি । সেটাই বা কম কি?
রুমী ঃ সর্বনাশ ! নায়ক হয়েই ভাব বেড়ে গেলো । মশাই আমিও কিন্তু নায়ক । “একাত্তরের দিনগুলি” গ্রন্থটির কথা বাঙালী এত তাড়াতাড়ি ভুলবে না । 
আজাদ ঃ কি যে বলিস , ওই গ্রন্থে জাহানারা ইমাম ম্যাডামের ছোয়া আছে। ম্যাডাম তোকে যেরকম করে লালন করেছে ওই গ্রন্থটিকেও ঠিক সেইভাবেই লালন করেছে । 
রুমী ঃ আচ্ছা আজাদ , নিজের ছেলের লাশটাকে নিজ হাতে দাফন না করতে পারার যন্ত্রনা কততটুকু বলতে পারিস ?
আজাদ ঃ তা জানি না তবে এইটুকু বলতে পারি , এই যন্ত্রনা মৃত্যু যন্ত্রনার চেয়ে বেশি । 
রুমী ঃ কি করে বুঝলি ? 
আজাদ ঃ দেখলি না , আমার মৃত্যুর পরেও ১৪ বছর পর্যন্ত কিভাবে মা আমার প্রতীক্ষায় দিন যাপন করতো । অথচ সে ভাল করেই জানতো যে তার ছেলে না ফেরার দেশে চলে গেছে । 
রুমী ঃ মায়েরা বুঝি এরকম ছেলেমানুষ হয় ?
আজাদ ঃ তা বলতে পারি না , তবে তোর মা খুব শক্ত মানুষ । ম্যাডাম ভেতরে ভেতরে চুরমার হয়ে গেলেও বাইরে পুরো পরিস্থিতিটাকে বলিষ্ঠ হাতে নিয়ন্ত্রন করেছে ।  
রুমী ঃ আচ্ছা , রমনা থানায় সেদিন তোর মা নাকি তোর সাথে দেখা করেছিল ?
আজাদ ঃ হ্যা রে , মা জিজ্ঞেস করেছিল আমি কারো নাম বলেছিলাম কি না ?
রুমী ঃ তুই কি বললি ?
আজাদ ঃ আমি বলেছিলাম , “ মা , এখনো কিছু বলি নি তবে ভয় করে , ওদের মারের চোটে যদি সব বলে দিই । “ তখন মা কি বললো জানিস ?
রুমী ঃ কি বললো রে ?
আজাদ ঃ বললো , “মারলে শক্ত হয়ে থেকো , সহ্য করো । ” মা নিজের চোখের জল লুকানোর চেষ্টা করছিলো , আমি বুঝতে পারছিলাম ।
রুমী ঃ আচ্ছা আজাদ , স্বাধীনতা তো পেয়েছি অনেকদিন হলো তার স্বার্থকতা কি ধারন করতে পারছি আমরা ?
আজাদ ঃ প্রশ্নটা একা তোর নয় রে , এ প্রশ্নটা লাখ লাখ শহিদের মনে জাগে ।
রুমী ঃ লজ্জা গভীর লজ্জা , রক্তের দাম দিয়ে পাওয়া স্বাধীনতা নিয়ে এরকম প্রশ্ন জাগে ?
(আজাদ ও রুমীর প্রস্থান । মঞ্চ অন্ধকার । )


২য় দৃশ্য

মঞ্চ আবার আলোকিত হল । সুরকার আলতাফ মাহমুদ ও বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের প্রবেশ। 
আলতাফ ঃ কি দুঃসাহস তোমার ! এইটুকু বয়সে বিমান হাইজ্যাক । কি দিয়ে তৈরি তোমরা ?
মতিউর ঃ সাহস কতটুকু ছিল জানিনা স্যার , তবে দেশটাকে বাচানোর জন্য প্রতিশোধের আগুনে দ্গধ ছিলাম এইটুকু বলতে পারি ।
আলতাফ ঃ তোমাদের মত নায়ক না থাকলে কি এত বড় শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ জয় সম্ভব ?
মতিউর ঃ শুধু আমার প্রশংসাটাই করে যাচ্ছেন, আপনিই বা কম কিসে ? 
আলতাফ ঃ আমার কাজে এত সাহস দরকার হয় নাই । আমি তো শুধু সুর করেছি । 
মতিউর ঃ তাই বুঝি আপনার সুরকে ভয় পেয়েই হানাদারেরা আপনাকেও ধরে নিয়ে গিয়েছিল ।
আলতাফ ঃ খুব কষ্ট হয়েছিল রে ! মেরে চোখ কপালের উপর ঝুলিয়ে দিয়েছিল রে !
মতিউর ঃ স্যার আপনার এত যন্ত্রনা হচ্ছিলো তা প্রকাশ করেন নি কেন ?
আলতাফ ঃ যন্ত্রনা প্রকাশ করলে যে আমার ছেলেগুলো ভেঙে পড়বে ।
মতিউর ঃ যন্ত্রনা সহ্য করে দুঃসাহসিক গেরিলাদের উৎসাহ দিয়ে যাওয়াটাও কিন্তু আমার মত দুঃসাহসিকতার অবদানের চেয়ে কোন অংশে কম নয় ।
আলতাফ ঃ আমি তো ছিলাম দেশলাই কাঠি , মূল আগুন তো ছিল আমার প্রানপ্রিয় ছেলেগুলো । 
মতিউর ঃ স্যার , আপনার উৎসাহ শুধু প্রত্যক্ষ গেরিলাদের সাক্ষাতকারে নয় আপনার সুরের মধ্যেও তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে । 
আলতাফ ঃ কি করে বুঝলে বলো তো ? 
মতিউর ঃ ওই দেখুন তাকিয়ে , আপনার সৃষ্টি “ আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো ” আজ সারাদিন বাজছে শহীদ মিনারে । 
আলতাফ ঃ জানো , গানটাতে আমি তোমার সবটুকু ভালবাসা উজাড় করে দিয়েছিলাম । 
মতিউর ঃ বোঝাই যায় স্যার , গানটা এখনো শুনলে নতুন করে জন্ম নিতে ইচ্ছে করে । ইস কি ভাগ্য আমাদের নতুন প্রজন্মের !
আলতাফ ঃ আচ্ছা মতিউর , তুমি আমার এই গানে যেভাবে উজ্জীবিত হও এই শহীদ মিনারে শহীদদেরকে ফুল দিয়ে বরন করা নতুন প্রজন্ম কি আমার এই গানে ঠিক একইভাবে উজ্জীবিত হয় ?
মতিউর ঃ যদি জানতাম , এই প্রশ্নের উত্তরের সম্মুখীন হতে হবে আমাকে তবে হয়তো দেশের জন্য এই দুঃসাহসিকতা আমার মধ্যে জাগতো না !
আলতাফ ঃ হয়তো দোষটা আমাদের । সঠিক দিক নির্দেশনায় তাদের পথ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছি আমরা। 
( সুরকার আলতাফ মাহমুদ ও বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের প্রস্থান । মঞ্চ অন্ধকার । )


৩য় দৃশ্য

(মঞ্চ পুনরায় আলোকিত হলে দেখা যাবে সোহাগী জাহান তনু মেঝের উপর বসে কাদছে । পেছন থেকে জয়া তনুর কাধে হাত রাখবে)
জয়া ◌ঃ আজকের এই দিনে কাদতে নেই। আজ যে আমাদের গর্বের দিন । 
তনু ঃ কেন, তোমার এত গর্ব কেন ? তুমি তো শহীদ নও । 
জয়া ঃ তাতে কি ! বীরাঙ্গনাদের বুঝি অবদান কম স্বাধীনতা যুদ্ধে ?
তনু ঃ না, তা বলছি না, আসলে তোমার যন্ত্রনাটা শোনার ইচ্ছে হচ্ছে খুব ।
জয়া ঃ কি আর শুনবে, ঐ নরপিশাচদের শক্তির সাথে কি পারবো ? এক রাতে আমাকে জীপে করে তুলে নিয়ে গিয়েছিল ওদের আস্তানায় । 
তনু ঃ তারপর ?
জয়া ঃ জানো, টানা ৪ দিন ধরে আমাকে গনধর্ষণ করলো ওরা । প্রথম দুই দিনে প্রায় ৬-৭ বার। শেষের দুই দিনে খুব কষ্ট হয়েছে । বাড়ি যাওয়ার জন্য খুব কান্না করেছিলাম কিন্তু যেতে দিল না । 
তনু ঃ ঐ কয়েকদিন খাবার দিয়ে তোমাদের সতেজ রেখেছিল নিশ্চয়ই ওদের শারীরিক প্রশান্তির আশায় !
জয়া ঃ না গো, একবেলা খেতে পেয়েছি । ঠিক্মত খেতে দেয় নি।
তনু ঃ মৃত্যুর আগে বাবা মে কে দেখতে ইচ্ছে হয় নি তোমার ?
জয়া ঃ না ।
তনু ঃ বলো কি, কেন ?
জয়া ঃ উলঙ্গ রেখেছিল মৃত্যুর শেষের দুই দিন। উলঙ্গ অবস্থায় কি করে বাড়ি যাব বলো । সবার সামনে দাড়াবো কি করে উলঙ্গ শরীরে, তাই ইচ্ছে হয় নি বাড়ি যাওয়ার । 
তনু ঃ তারপরও তোমার গর্ব হচ্ছে আজ ?
জয়া ঃ হ্যা হচ্ছে । নতুন প্রজন্ম আজ আমাদের মত বীরাঙ্গনাদেরও শহীদের মতই সম্মান করে । লাখো শহীদের সাথে আমাদেরও জয়গান গায় । আর কখনো আমাদের মত কোন তরুন যুবতী নির্যাতিত হলে নতুন প্রজন্ম তার প্রতিবাদ করবে ।
তনু ঃ ভুল, তোমার ধারনা ভুল । তুমি পরাধীন দেশে ধর্ষিত হয়ে উপাধি পেলে বীরাঙ্গনা আর আমি স্বাধীন দেশে ধর্ষিত হয়ে মরেছি । বলো কি উপাধি দেবে আমায় ?
জয়া ঃ কি বলছো এসব ?
তনু ঃ হ্যা , তুমি পিশাচদের হাতে ধর্ষিত হয়ে দেশ স্বাধীন করেছো ঠিকই কিন্তূ স্বাধীন দেশ থেকে কি পিশাচ তাড়াতে পেরেছো ? দেখো সেই পিশাচেরা কি অবস্থা করেছে আমার, আর সেই জাতির হাতেই তুমি ফুলের শুভেচ্ছা গ্রহন করছো ?
জয়া ঃ কি শোনাচ্ছো তুমি এসব !
তনু ঃ শহীদ মিনারের ঐ ফুলের মরীচিকা দেখো না । ঐ দেখো তোমার মত এক বীরাঙ্গনা শহীদ মিনারে বসে ভিক্ষা করছে । 
জয়া ঃ তুমি চিন্তা করো না, তোমার এই নির্মম হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার পাবে । 
তনু ঃ স্বাধীনতার ৩ যুগ পেরিয়া যাওয়ার পরও যে জাতি হানাদারের পৈশাচিক বৈশিষ্ট্যগুল ধারন করতে পারে সেই জাতির কাছে তুমি সঠিক বিচার পাবে কি না তাই সন্দেহ, আমি তো অনেক দূরের বিষয়। 
জয়া ঃ তোমার ভাগ্য ভাল তুমি মরেছো, তোমার মত অনেক জীবিত তনু বারবার ধর্ষিত হচ্ছে কখনো আদালতে কখনো স্বজনদের কাছে কখনো প্রতিবেশীর কাছে । 
তনু ঃ এরপরেও এই প্রজন্মের জন্য তোমার গর্ব হয় ? বাহ, তোমার মত সহানুভূতি মার নেই গো ।
জয়া ঃ নতুন প্রজন্ম কোন পথে আগাচ্ছে ? স্বাধীনতার চেতনা থেকে এভাবে ভ্রষ্ট হলে তো একদিন এই স্বাধীনতা ফিকে হয়ে যাবে।
(মঞ্চ পুনরায় অন্ধকার । বীরাঙ্গনা জয়া ও সোহাগী জাহান তনুর প্রস্থান) 


৪র্থ দৃশ্য

(মঞ্চের বাতি জ্বলে উঠলে দেখা যাবে সাদা পাঞ্জাবীর উপর কালো কোতি পরিহিত শেহ মুজিবুর রহমান চেয়ারে বসে পাইপে টানতে টানতে তাজউদ্দিন আহমেদের সাথে কথা বলছে )
মুজিব ঃ তাজ, আমায় ক্ষমা করো । আমি তোমার কথা শুনি নি। এড়িয় চলেছি তোমাকে । 
তাজউদ্দিন ঃ কি বলেন মুজিব ভাই এইসব । আমকে পারলে বকা দিয়েন কিন্তু এভাবে ক্ষমা চাইবেন না, প্লিজ।
মুজিব ঃ আসলে তাজ, আমি কখনোই বিশ্বাস করতে পারি নি আমার দেশের মানুষ আমাকে মেরে ফেলতে  পারে। 
তাজউদ্দিন ঃ মুজিব ভাই, এত বড় নেতা হয়ে আপনি এত সরল কি করে হতে পারেন যে মোশতাক সাহেবকে এভাবে এত সহজে বিশ্বাস করে ফেললেন। 
মুজিব ঃ বুঝলে তাজ, যেদিন কারাগারে তোমায় গুলি করলো সেদিন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তুমি পানি চেয়েছিলে । আমার খুব ইচ্ছে হয়েছিল তোমায় নিজ হাতে পানি পান করাই।
তাজউদ্দিন ঃ ভাই, আমি আপনাকে ঝাপসা ঝাপসা দেখছিলাম কারন এক রাউন্ড বুলেটের ঝটকায় চোখের চশমা পড়ে গিয়েছিল নিচে। পরে বুঝলাম এসব আমার স্মৃতিচারন। 
মুজিব ঃ কি পেল ওরা এসব করে বলতো ? আমাকে না হয় মেরে ফেললো অন্তত তোমাকে তো রাখতে পারতো ? না হয় ক্ষমতচ্যুত করে রাখতো কিন্তু একটা জাতি তো প্রতিষ্ঠিত হত ! 
তাজউদ্দিন ঃ ওরা ভাল করেই জানতো আমি ওদের মূল গলার কাটা । আপনার চেয়ে শত্রুতা আমার সাথেই বেশি। 
মুজিব ঃ তা অবশ্য ঠিক । সবাই আমাকে মুক্তিযুদ্ধের নায়ক বললেও আমি জানি এই উপাধি আম্র প্রাপ্য নয়। 
তাজউদ্দিন ঃ তা শুনি আপনার যুক্তি, কে এই উপাধির যোগ্য এবং কেন ?
মুজিব ঃ আমি প্রেপ্তার হলাম ১৯৭১ এর ২৫ শে মার্চ আর ফিরে এলাম পরের বছরের ১০ জানুয়ারী। পুরোটা যুদ্ধ কাটিয়ে দিলাম জেলে বসে। তাহলে আমি কি করে নায়ক হলাম বলতো। 
তাজউদ্দিন ঃ তাই নাকি । তো আপনার ভাষনে তো মনে হচ্ছে আমাকে এই উপাধি গ্রহন করতে হবে। তাইতো?
মুজিব ঃ নিঃসন্দেহে। তুমি তো সামনে থেকে পুরো যুদ্ধ পরিচালনা করলে। ইন্দিরার কাছে উপস্থিত বুদ্ধিমত্তায় নিজেকে স্বঘোষিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচয় না দিলে মিত্র বাহিনীর সাহায্য কি করে পেতাম, বলতো?
তাজউদ্দীন ঃ আপনি আর পাল্টালেন না ? নিজের অবদান স্বীকার না করে অন্যের উপর তা চাপিয়ে দিবেন। ঐ দেখুন, কত মানুষ শহীদ মিনারে এসেছে শহীদদের ফুল দিয়ে বরন করতে। আসল নায়ক ঐ শহীদেরা। রক্তের বিনিময়ে যে স্বাধীন দেশের দায়িত্ব ওরা আমাদেরকে দিয়েছে সে দেশের প্রজন্মকে কি আমরা স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত করতে পেরেছি ?
মুজিব ঃ ঠিক বলেছো। স্বাধীন দেশের তনুর মত মেয়ে বীরাঙ্গনা হচ্ছে আর ধর্ষকেরা থেকে যাচ্ছে বিচারের উর্ধ্বে।  
তাজউদ্দিন ঃ এখনো নিজস্ব মত প্রকাশের দায়ে পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে অনেক মেধাবী ছাত্রকে। 
মুজিব ঃ এখনো দেশের গরীবের চাল চুরি হয়, লক্ষ লক্ষ যুবককে বেকার দেখতে হয়। এখনো দেশে ভাল কাজের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো হয়। 
তাজউদ্দিন ঃ আচ্ছা মুজিব ভাই, নতুন প্রজন্মকে সঠিক দিক নির্দেশনা দেয়ার মত কোন উপায় কি নেই?
মুজিব ঃ আছে তাজ আছে । কোন এক যুগে আমি ,তুমি,সালাম,বরকত,রুমি,আজাদসহ আমরা সবাই আবার জম্ন নিব ।  
তাজউদ্দিন ঃ ভাই,আমরা আবারও আপনাকে বিশ্বাস করে সেই প্রতীক্ষায় রইলাম।
( শেখ মুজিব ও তাজউদ্দিন আহমেদ পরস্পর কোলাকুলি করে মঞ্চ প্রস্থান করলো )


সমাপ্ত

Post a Comment

Previous Post Next Post